ইতিহাস প্রশ্নপত্র ও উত্তর
১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
(i) 'What is the Third Estate' নামক ইস্তাহারটি প্রকাশ করেন—
উত্তর: (c) আবে সিয়েস
(ii) ফরাসি বিপ্লবের বেশ কয়েক বছর আগেই 'জনগণের সার্বভৌমত্ব' ঘোষণা করেন—
উত্তর: (c) রুশো
(iii) ফরাসি বিপ্লবের কত বছর আগে নেপোলিয়ন ফরাসি সৈন্যবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন?
উত্তর: (c) চার বছর
ব্যাখ্যা: নেপোলিয়ন ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে সাব-লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগ দেন এবং ফরাসি বিপ্লব শুরু হয় ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
(iv) নেপোলিয়নের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হল—
উত্তর: (c) কোড নেপোলিয়ন
(v) জাতীয়তাবাদ বলতে বোঝায়—
উত্তর: (b) জাতীয় চেতনা
(vi) 'হেটাইরিয়া ফিলিকে' কথার অর্থ—
উত্তর: (a) স্বাধীনতার অনুরাগী (বা বন্ধুবর্গের সমিতি)
(vii) অক্সফোর্ড বক্তৃতামালায় 'শিল্পবিপ্লব' কথাটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন—
উত্তর: (a) আর্নল্ড টয়েনবি
(viii) জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিনের পেটেন্ট পান—
উত্তর: (a) ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে
(ix) 'A Contribution to the Critique of Political Economy' বইটি লিখেছেন—
উত্তর: (a) কার্ল মার্কস
(x) জার্মানিতে ফ্লোটেন ভেরাইন তৈরি হয় মূলত যেখানে উপনিবেশ বিস্তারের জন্য—
উত্তর: (a) আফ্রিকায়
(xi) রাশিয়ায় রাজাকে বলা হত—
উত্তর: (b) জার
(xii) ভাইমার প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়েছিল—
উত্তর: (b) জার্মানিতে
(xiii) 'মেইন ক্যাম্ফ' রচনা করেন—
উত্তর: (b) হিটলার
(xiv) 'এপ্রিল থিসিস' ছিল একটি—
উত্তর: (a) রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা: এটি ছিল লেনিনের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা।
(xv) রাশিয়ার শেষ সম্রাট ছিলেন—
উত্তর: (b) দ্বিতীয় নিকোলাস
(xvi) মিউনিখ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়—
উত্তর: (d) ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে
(xvii) 'গণতন্ত্রের অস্ত্রাগার' হয়ে উঠেছিল—
উত্তর: (d) আমেরিকা
(xviii) 'Cash and Carry' নীতি নিয়েছিল—
উত্তর: (d) আমেরিকা
(xix) জাতিসংঘের খসড়া সংবিধানের নাম ছিল—
উত্তর: (d) লিগ কভেনান্ট
(xx) একেবারে শুরুতে UNO-তে সনদ রাষ্ট্র ছিল—
উত্তর: (d) ৫১টি
ব্যাখ্যা: সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে ৫০টি রাষ্ট্র সনদে স্বাক্ষর করে এবং পরে পোল্যান্ড ৫১তম মূল প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্র হিসেবে স্বাক্ষর করে।
২। একটি বাক্যে বা সংক্ষেপে উত্তর দাও
(i) মহাদেশীয় অবরোধ প্রথা কোন্ বছর চালু হয়?
উত্তর: মহাদেশীয় অবরোধ প্রথা ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে ২১ নভেম্বর বার্লিন ডিক্রি জারির মাধ্যমে চালু হয়।
(ii) প্রলেতারিয়েত কথার অর্থ কী?
উত্তর: প্রলেতারিয়েত কথার অর্থ শ্রমজীবী বা সর্বহারা শ্রেণি, যাদের নিজস্ব উৎপাদনের উপকরণ থাকে না এবং যারা শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
(iii) কেরেনস্কি কে ছিলেন?
উত্তর: আলেকজান্ডার কেরেনস্কি ছিলেন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর রাশিয়ার অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী।
(iv) আটলান্টিক মহাসনদ কারা স্বাক্ষর করেছিলেন?
উত্তর: ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক মহাসনদ ঘোষণা করেন।
৩। সত্য অথবা মিথ্যা নির্ণয় করো
(i) রাজা ষোড়শ লুই বুর্জোয়াদের দাবি মেনে নিয়ে পদত্যাগ করেন।
উত্তর: মিথ্যা।
কারণ: ফরাসি বিপ্লবের সময় রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে ষোড়শ লুইকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং পরে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
(ii) সার্বিয়া অস্ট্রিয়া আক্রমণ করলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
উত্তর: মিথ্যা।
কারণ: অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
(iii) পার্ল হারবার আক্রমণের পিছনে ছিল লাল ফৌজ।
উত্তর: মিথ্যা।
কারণ: ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপান পার্ল হারবারে আক্রমণ করেছিল।
(iv) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হল পাঁচটি।
উত্তর: সত্য।
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য হলো আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চিন।
৪। বিবৃতি ও ব্যাখ্যা থেকে সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
(i) বিবৃতি: ফরাসি জাতীয় সভা সংবিধান সভায় রূপান্তরিত হয়—
(a) জাতীয় সভার সদস্যরা সংবিধান সভা গঠন করে।
(b) জাতীয় সভার ওপর সংবিধান রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
(c) জাতীয় সভা ভেঙে দিয়ে সংবিধান সভা গড়ে তোলা হয়।
সঠিক উত্তর: (b) জাতীয় সভার ওপর সংবিধান রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ব্যাখ্যা: ১৭৮৯ সালের ৯ জুলাই জাতীয় সভা নিজেদের সংবিধান সভা হিসেবে ঘোষণা করে।
(ii) বিবৃতি: নেপোলিয়ন ইউরোপীয় মানচিত্রে বিপুল পরিবর্তন ঘটান—
(a) নেপোলিয়ন বেশ কয়েকটি দেশকে অর্থের বিনিময়ে অধিগ্রহণ করেন।
(b) নেপোলিয়ন নতুনভাবে ইউরোপের মানচিত্র অঙ্কন করেন।
(c) যুদ্ধনীতির সাহায্যে তিনি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশকে ধ্বংস করেন।
সঠিক উত্তর: (b) নেপোলিয়ন নতুনভাবে ইউরোপের মানচিত্র অঙ্কন করেন।
ব্যাখ্যা: ইউরোপের বহু অঞ্চল জয় করে তিনি পুরোনো সীমানা পরিবর্তন করেন এবং নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করেন।
(iii) বিবৃতি: জার পিটার দ্য গ্রেটকে 'আধুনিক রাশিয়ার জনক' বলা হয়—
(a) তাঁর নেতৃত্বে রাশিয়ায় আধুনিকীকরণের সূচনা হয়।
(b) তিনি ভূমিদাস প্রথার বিলোপ ঘটান।
(c) তিনি রুশ অর্থনীতির আধুনিকীকরণ ঘটান।
সঠিক উত্তর: (a) তাঁর নেতৃত্বে রাশিয়ায় আধুনিকীকরণের সূচনা হয়।
ব্যাখ্যা: তিনি রাশিয়ার প্রশাসন, সেনাবাহিনী, শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থার আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেন।
(iv) বিবৃতি: ভার্সাই চুক্তির শর্তগুলি জার্মানদের কাছে অমর্যাদাকর ছিল—
(a) জার্মান উপনিবেশগুলি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বিরাট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাপানো হয়েছিল।
(b) ভার্সাই চুক্তির শর্তগুলিতে জার্মান জাতীয়তাবাদের অপমান করা হয়েছিল।
(c) জার্মানদের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল।
সঠিক উত্তর: (a) জার্মান উপনিবেশগুলি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বিরাট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাপানো হয়েছিল।
ব্যাখ্যা: জার্মানির সামরিক শক্তি সীমিত করা হয়, উপনিবেশগুলি কেড়ে নেওয়া হয় এবং ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়।
৫। সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দাও
(i) ফ্রান্সে ফারমিয়ের জেনারেলরা কী কী কাজ করত?
উত্তর: প্রাক-বিপ্লব ফ্রান্সে ফারমিয়ের জেনারেলরা ছিল কর আদায়ের ইজারাদার। তারা সরকারের কাছ থেকে কর আদায়ের অধিকার কিনে নিত। লবণ করসহ বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আদায় করত। অনেক ক্ষেত্রে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নির্ধারিত করের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করত। এর ফলে দরিদ্র জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়ত এবং ইজারাদাররা বিপুল মুনাফা অর্জন করত।
(ii) 'Tree of Liberty' কী?
উত্তর: ফরাসি বিপ্লবের সময় স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রীর প্রতীক হিসেবে রোপণ করা গাছকে 'ট্রি অফ লিবার্টি' বা স্বাধীনতার বৃক্ষ বলা হয়। এই গাছ বিপ্লবী আদর্শের প্রতীক হয়ে ওঠে। মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানও ফরাসি বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং শ্রীরঙ্গপত্তনমে স্বাধীনতার বৃক্ষ রোপণ করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
(iii) কোন্ ডিক্রিগুলির দ্বারা নেপোলিয়ন মহাদেশীয় অবরোধ প্রথাকে কার্যকর করতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: ইংল্যান্ডের বাণিজ্য ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন বার্লিন ডিক্রি (১৮০৬), ওয়ারশ ডিক্রি (১৮০৭), মিলান ডিক্রি (১৮০৭) এবং ফন্টেনব্লু ডিক্রি (১৮১০)-এর মাধ্যমে মহাদেশীয় অবরোধ প্রথা কার্যকর করার চেষ্টা করেন।
(iv) মেটারনিখতন্ত্র কী?
উত্তর: ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর প্রিন্স মেটারনিখ ইউরোপে উদারনীতিবাদ, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের প্রসার দমন করার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি পুরোনো রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও ইউরোপের রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর অনুসৃত এই রক্ষণশীল ও দমনমূলক ব্যবস্থাকে মেটারনিখতন্ত্র বলা হয়।
(v) জাতীয়তাবাদ কাকে বলে?
উত্তর: জাতীয়তাবাদ হলো এমন একটি মানসিক ও আত্মিক অনুভূতি, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মানুষ নিজেদের একই জাতির অংশ বলে মনে করে। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অন্যান্য মিলিত বৈশিষ্ট্য এই অনুভূতি গড়ে তুলতে পারে। জাতীয়তাবাদ মানুষকে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং জাতীয় কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করে।
(vi) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল?
উত্তর: ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ক্রিমিয়ার যুদ্ধ হয়েছিল। একদিকে ছিল রাশিয়া এবং অন্যদিকে ছিল অটোমান সাম্রাজ্য, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সার্ডিনিয়া।
(vii) দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ হলো কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দার্শনিক তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুসারে, বস্তুজগৎই বাস্তবতার মূল ভিত্তি। সমাজ ও প্রকৃতির পরিবর্তন পরস্পরবিরোধী শক্তির দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে ঘটে। মার্কসবাদী দর্শনে সমাজের বিকাশ ব্যাখ্যা করতে এই ধারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(viii) উন্মুক্ত দ্বার নীতি কী?
উত্তর: ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জন হে চিনে উন্মুক্ত দ্বার নীতি ঘোষণা করেন। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল চিনে বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রের জন্য সমান বাণিজ্যিক সুযোগ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে চিনে কোনো একটি বিদেশি শক্তির একচেটিয়া বাণিজ্যিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা রোধ করার চেষ্টা করা হয়।
(ix) লেনিনের এপ্রিল থিসিস কী কারণে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিলে রাশিয়ায় ফিরে লেনিন তাঁর বিপ্লবী কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা এপ্রিল থিসিস নামে পরিচিত। এতে অস্থায়ী বুর্জোয়া সরকারের বিরোধিতা এবং সমস্ত ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। লেনিন শান্তি, রুটি ও জমির দাবিকে গুরুত্ব দেন। এই কর্মসূচি বলশেভিকদের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ প্রস্তুত করে এবং রুশ বিপ্লবের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
(x) সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড কী?
উত্তর: ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুন বসনিয়ার সেরাজেভো শহরে অস্ট্রিয়ার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রান্সিস ফার্দিনান্দ এবং তাঁর স্ত্রী সোফিয়াকে গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ হত্যা করেন। তিনি ছিলেন দক্ষিণ স্লাভ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজন বসনীয় সার্ব। এই হত্যাকাণ্ডের পর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
(xi) ফ্যাসিবাদের মূল কথা কী?
উত্তর: ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনি ফ্যাসিবাদের প্রসার ঘটান। ফ্যাসিবাদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো উগ্র জাতীয়তাবাদ, একনায়কতন্ত্র, বিরোধী মতের দমন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা। এই মতবাদে রাষ্ট্রকে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়। ফ্যাসিবাদ গণতান্ত্রিক বিরোধিতা ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে প্রত্যাখ্যান করে।
(xii) অক্ষশক্তিতে কোন্ কোন্ দেশ ছিল?
উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অক্ষশক্তির প্রধান তিনটি রাষ্ট্র ছিল জার্মানি, ইতালি ও জাপান। এই জোট রোম-বার্লিন-টোকিও অক্ষ নামে পরিচিত। পরবর্তীকালে হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ অক্ষশক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়।
(xiii) রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি কবে, কারা স্বাক্ষর করে?
উত্তর: ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৩ আগস্ট জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জার্মানির পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোয়াকিম ফন রিবেনট্রপ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিয়াচেস্লাভ মলোটভ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
(xiv) কোন্ ভীতি তোষণনীতির জন্ম দিয়েছিল?
উত্তর: ব্রিটেন ও ফ্রান্সের শাসকদের মনে সাম্যবাদের প্রসার এবং ইউরোপে আরেকটি বড় যুদ্ধের আশঙ্কা তোষণনীতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁরা মনে করেছিলেন, হিটলারকে কিছু দাবি পূরণের সুযোগ দিলে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব সীমিত রাখা যাবে।
(xv) আটলান্টিক সনদ কী?
উত্তর: ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক সনদ ঘোষণা করেন। এতে যুদ্ধোত্তর বিশ্বে শান্তি, নিরাপত্তা, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আদর্শ তুলে ধরা হয়। এই সনদ পরবর্তীকালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠনের আদর্শগত ভিত্তি তৈরিতে সাহায্য করে।
(xvi) ভেটো কী?
উত্তর: ভেটো একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ 'আমি নিষেধ করলাম'। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের বিশেষ ক্ষমতাকে ভেটো ক্ষমতা বলা হয়। এই ক্ষমতার সাহায্যে কোনও স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অপ্রক্রিয়াগত প্রস্তাব আটকে দিতে পারে। পাঁচটি স্থায়ী সদস্য হলো আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চিন।
৬। সাত-আটটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো ছয়টি)
(i) টেনিস কোর্টের শপথ কী?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়: ১৭৮৯ সালের ২০ জুন ফ্রান্সের তৃতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ভার্সাইয়ের টেনিস কোর্টে সমবেত হন। তাঁরা শপথ নেন যে, ফ্রান্সের জন্য একটি নতুন সংবিধান রচনা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বিচ্ছিন্ন হবেন না। এই ঘটনা ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাজতন্ত্রের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিনিধিদের দৃঢ় অবস্থানের পরিচয় দেয়।
(ii) নেপোলিয়নকে 'বিপ্লবের সন্তান' বলাটা কতটা যুক্তিযুক্ত?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়: ফরাসি বিপ্লবের ফলে পুরোনো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার পতন ঘটে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে উন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। নেপোলিয়ন এই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সেনাবাহিনীতে উন্নতি করেন। তিনি সামন্ততান্ত্রিক বিশেষাধিকার বিলোপের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁর প্রবর্তিত কোড নেপোলিয়ন আইনের চোখে সমতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে তিনি পরে নিজেই সম্রাট হয়ে একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তাই তিনি বিপ্লবের কিছু আদর্শ রক্ষা করলেও সব আদর্শ অনুসরণ করেননি। এই কারণেই তাঁকে 'বিপ্লবের সন্তান' বলা যুক্তিযুক্ত।
(iii) বিসমার্ক কোন্ কোন্ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়: অটো ফন বিসমার্ক 'রক্ত ও লৌহ' নীতির সাহায্যে জার্মানির ঐক্যসাধন করেন। এই কাজে তিনি প্রধানত তিনটি যুদ্ধ পরিচালনা করেন। প্রথমে ১৮৬৪ সালে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে প্রুশিয়া ও অস্ট্রিয়া যৌথভাবে যুদ্ধ করে। এরপর ১৮৬৬ সালে প্রুশিয়া অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করে। সবশেষে ১৮৭০-৭১ সালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে প্রুশিয়া জয়লাভ করে। এই যুদ্ধগুলির ফলে জার্মানির বিভিন্ন রাজ্য প্রুশিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৮৭১ সালে ভার্সাই প্রাসাদে জার্মান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করা হয়।
(iv) ফ্রান্সে দেরিতে শিল্পবিপ্লব হয়েছিল কেন?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়: ইংল্যান্ডের তুলনায় ফ্রান্সে শিল্পবিপ্লব দেরিতে শুরু হয়। ফ্রান্সে দীর্ঘদিন কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র উৎপাদনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফরাসি বিপ্লব ও পরবর্তী যুদ্ধ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। ইংল্যান্ডের মতো পর্যাপ্ত কয়লা ও লোহার সহজলভ্যতা এবং পুঁজির কেন্দ্রীভবন সব অঞ্চলে সমান ছিল না। ফ্রান্সে ক্ষুদ্র কৃষক ও কারিগরদের সংখ্যা বেশি ছিল। ফলে বৃহৎ কারখানা ও যন্ত্রনির্ভর উৎপাদন দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারেনি। এসব কারণে ফ্রান্সে শিল্পবিপ্লব তুলনামূলকভাবে দেরিতে ঘটে।
(v) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব অর্থনীতি কেন মহামন্দার কবলে পড়েছিল?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়: ১৯২৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধসের মাধ্যমে মহামন্দার সূচনা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উৎপাদন ও ক্রয়ক্ষমতার ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। অনেক মানুষ ও প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছিল। শেয়ারের দাম পড়ে গেলে বিনিয়োগকারীরা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হন। বহু ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায় এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে যায়। বেকারত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ায় সংকট বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে।
(vi) ভার্সাই সন্ধির সামরিক শর্তগুলি আলোচনা করো।
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়: ১৯১৯ সালের ভার্সাই সন্ধির মাধ্যমে জার্মানির সামরিক শক্তি কঠোরভাবে সীমিত করা হয়। জার্মান স্থলবাহিনীর সদস্যসংখ্যা এক লক্ষে নামিয়ে আনা হয়। বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়। জার্মানিকে ট্যাঙ্ক ও সামরিক বিমান রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার নৌবাহিনীর শক্তিও সীমিত করা হয়। সাবমেরিন রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। রাইনল্যান্ডকে অসামরিক অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এই শর্তগুলি জার্মানদের মধ্যে অপমান ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
(vii) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য হিটলার কতটা দায়ী ছিলেন?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য হিটলার ও নাৎসি জার্মানি প্রধানত দায়ী ছিল। হিটলার ভার্সাই সন্ধির শর্ত অমান্য করে জার্মানির সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেন। তিনি রাইনল্যান্ডে সেনা পাঠান এবং অস্ট্রিয়া ও সুদেতেনল্যান্ড দখল করেন। ১৯৩৯ সালে জার্মানি চেকোস্লোভাকিয়ার আরও অঞ্চল দখল করে। ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর ফলে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তবে ভার্সাই সন্ধির কঠোরতা, তোষণনীতি ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষার ব্যর্থতাও যুদ্ধের পটভূমি তৈরিতে ভূমিকা নেয়।
(viii) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে কেন 'Total War' বলা হয়?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একটি দেশের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি সমগ্র অর্থনীতি ও সমাজকে যুদ্ধের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল। অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যুদ্ধের সরঞ্জাম তৈরির জন্য শিল্পকারখানাগুলিকে ব্যবহার করা হয়। সাধারণ মানুষও যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবের শিকার হয়। শহর ও শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়। খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। নারী ও পুরুষ উভয়েই যুদ্ধসংক্রান্ত কাজে অংশগ্রহণ করেন। অসামরিক মানুষের বিপুল প্রাণহানি ঘটে। এই কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে 'সর্বাত্মক যুদ্ধ' বা 'Total War' বলা হয়।
৭। পনেরো-ষোলোটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো একটি)
(i) ভিয়েনা কংগ্রেস কীভাবে নেপোলিয়নোত্তর ইউরোপের পুনর্গঠন করেছিল?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়:
১. ১৮১৪-১৫ সালে নেপোলিয়নের পতনের পর ইউরোপের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ভিয়েনা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
২. অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর মেটারনিখ এই কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
৩. ইউরোপে পুরোনো রাজবংশগুলিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
৪. ফ্রান্সে বুরবোঁ রাজবংশ পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে।
৫. ফ্রান্সকে নেপোলিয়নের বিজয়ের আগেকার সীমানায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
৬. ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ আগ্রাসন ঠেকাতে তার চারপাশে শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলা হয়।
৭. নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামকে একত্র করে নেদারল্যান্ডসের রাজ্য গঠন করা হয়।
৮. প্রুশিয়া রাইন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড লাভ করে।
৯. অস্ট্রিয়া ইতালির কয়েকটি অঞ্চলে নিজের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
১০. রাশিয়া পোল্যান্ডের একটি বড় অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করে।
১১. সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা স্বীকৃতি পায়।
১২. ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।
১৩. রক্ষণশীল রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করা ছিল কংগ্রেসের অন্যতম উদ্দেশ্য।
১৪. জাতীয়তাবাদ ও উদারনীতিবাদের প্রসার রোধ করার নীতি গ্রহণ করা হয়।
১৫. ভিয়েনা কংগ্রেস ইউরোপে কয়েক দশক ধরে বৃহৎ শক্তিগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছিল।
১৬. তবে জাতীয়তাবাদী ও উদারপন্থী আন্দোলনকে দমন করার ফলে পরবর্তীকালে ইউরোপে নতুন বিপ্লবের পথও তৈরি হয়।
(ii) সাম্রাজ্যবাদ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য কতটা দায়ী ছিল?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়:
১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল সাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
২. উনিশ শতকের শেষভাগে ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলি এশিয়া ও আফ্রিকায় উপনিবেশ বিস্তারে প্রতিযোগিতা শুরু করে।
৩. ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিশাল ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য ছিল।
৪. জার্মানি দেরিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় নতুন উপনিবেশ অর্জনের চেষ্টা করে।
৫. এর ফলে জার্মানি ও ব্রিটেনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি পায়।
৬. আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে উপনিবেশ নিয়ে ইউরোপীয় শক্তিগুলির বিরোধ দেখা দেয়।
৭. মরক্কো সংকট জার্মানি ও ফ্রান্সের সম্পর্ককে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।
৮. সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশগুলি নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে।
৯. নৌবাহিনী গঠনের প্রতিযোগিতা বিশেষত ব্রিটেন ও জার্মানির মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়।
১০. ইউরোপীয় দেশগুলি বিভিন্ন সামরিক জোট গঠন করে।
১১. ফলে একটি আঞ্চলিক সংঘাত বৃহত্তর যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
১২. বলকান অঞ্চলে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
১৩. ১৯১৪ সালে সেরাজেভো হত্যাকাণ্ডের পর সংকট দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
১৪. অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ইউরোপীয় শক্তিগুলিকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলে।
১৫. সাম্রাজ্যবাদ একা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ছিল না; উগ্র জাতীয়তাবাদ, সামরিকতন্ত্র ও জোটব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১৬. তবুও উপনিবেশ দখলের প্রতিযোগিতা ইউরোপের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সংঘাত বাড়িয়ে যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করেছিল।
(iii) দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে ইউরোপে 'গণতন্ত্রের মড়ক' লেগেছিল কেন?
উত্তর লেখার জন্য মূল বিষয়:
১. ১৯১৯ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ইউরোপের বহু দেশে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।
২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বহু দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে পড়ে।
৩. ভার্সাই সন্ধির কঠোর শর্ত জার্মানির মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
৪. নতুন গণতান্ত্রিক ভাইমার প্রজাতন্ত্রকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
৫. যুদ্ধোত্তর মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা জনগণের অসন্তোষ বাড়ায়।
৬. ১৯২৯ সালের মহামন্দা ইউরোপের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দেয়।
৭. বহু মানুষ গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে।
৮. এই পরিস্থিতিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ফ্যাসিবাদী দলগুলির জনপ্রিয়তা বাড়ে।
৯. ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
১০. জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলার নাৎসি দলের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসেন।
১১. হিটলার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১২. স্পেনেও গৃহযুদ্ধের পর ফ্রাঙ্কোর স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৩. বিভিন্ন দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়।
১৪. অনেক শাসক জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নামে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
১৫. ফলে ইউরোপের বহু দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে বা দুর্বল হয়ে যায়।
১৬. এই কারণেই দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে ইউরোপে গণতন্ত্রের সংকটকে 'গণতন্ত্রের মড়ক' বলা হয়।


পোস্ট পড়ার পর ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করতে ভুলবেন না ।
( After reading post not forgetting comments. ) 👆